Press Release: Next December, 2020- The self motivational writing “Bodhanam” will publish in Three language( English, Bengali, Nepali) Writer: Suvashis Sarkar (Suvo)

আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরে আমার লেখনী, গত ৮ বছরের সঞ্চয় “বোধন” – “Bodhanam” – “बोधनाम” প্রকাশ হবে একযোগে বেশ কিছু নামকরা অনলাইন এবং অফলাইন, তথা প্রিন্টিং মিডিয়ায়। বাংলা, ইংরেজি এবং নেপালী- এই তিন ভাষায়। পরে আরো ভাষা সংযোজন এর ইচ্ছা আছে। খসড়ার কাজ শেষ, এখন শুধু টিউন আপ এর কাজ। লেখনীতে বরাবর ই আমি একটা বিশেষ খেয়াল রাখি “সিদ্ধান্ত না দেয়ার।” ডান এবং বাম এর পরিচয় এবং সেই পথের ঠিকানা সকলকে জানানো হবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদাহরণ মূলক গল্পের মাদ্ধমে এবং আমার নিজের ভাব প্রকাশে। তবে কোনো ক্ষেত্রেই সেগুলো আপনাকে চুল পরিমাণ নিজ সিদ্ধান্ত সীমাবদ্ধতায় জড়াবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আপনাকে নিজেই। কি, কিছুটা জটিল মনে হচ্ছে, চলুন আমার লেখনী র একটা ছোট্ট উদাহরণমূলক গল্প দিয়ে, বিষয়টা সহজ করে দেই… অনেক ভক্ত সহ একজন গুরু শীতকালে থাকার জন্ন জায়গা খোজ করছিলেন। দলে অনেক বড় হওয়ায়, এক এক জন, এক এক বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকেন। এমন সময় এক পতীতা মহিলা গুরু র এক ভক্ত কে তার বাসায় থাকতে খুব করে অনুরোধ করেন। সংগের ভক্ত রা তো অবাক! কারো কারো তো আবার লজ্জায় মাথা কাটা যায়। সবাই ভাবছে, একজন পতীতা কি করে এতোটা দুঃসাহস পায়? তবে মজার বিষয় কি, এই ভক্ত ও আবার যেন-তেন লোক নন।

তিনি তার সকল গুরু ভাইদের চোখ রাংগানি উপেক্ষা করে, ওই মহিলাকে গিয়ে বললেন, দেখুন আমার আপনার বাসায় থাকতে কোনো আপত্তি নেই, শুধু আমার গুরু র অনুমতি পেলেই আমি এটি করতে পারব। তো গুরু তখন ই তার সেই ভক্ত কে ওই মহিলার বাসায় থাকার অনুমতি দিয়ে দেন। এতে একজন বয়স্ক ভক্ত বলে উঠলেন, এটা ঠিক নয়, কারণ ওই মহিলা একজন পতীতা। গুরু তখন স্থির ভাবে বললেন, আমার সেই ভক্ত একবার এর জন্নও ওই মহিলাকে পতীতা বলে নি, আর এ কারণেই আমি তাকে অনুমতি দেই। সংগের অন্ন ভক্ত রা তো অবাক, এই ভেবেই তারা অস্থির যে ওই পতিতার বাসায় যাওয়া ভক্ত তার সমস্ত মান সম্মান জলাঞ্জলী দিয়ে ফেলল। তাদের মনের ভাব বুঝতে পেরে গুরু বললেন, সকলেই তাকে সম্মান করে, গুরু হিসেবে মানে এই কারণে, যে তিনি মানব জীবন ধারণের সব চাইতে ভাল পথের দিশা পেয়েছেন, কিন্তু তার ভক্ত রা যদি মনে করেন, গুরু র সব শিক্ষা অসফল করে একজন ভক্ত মুহুরতেই পতীতাগামী হয়ে পড়বে, তবে সে ক্ষেত্রে গুরু র নিজেই সয়ং ওই পতীতার কাছে যাওয়া উচিত। কারণ এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে গুরু র দেখানো পথের চাইতে, ওই পতীতার কাছে বেশি শক্তিশালী, ভাল জীবন যাপনের পথ রয়েছে। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়ে, পরদিন দেখা গেল, সেই ভক্তের সংগে একজন মহিলা ভক্ত ও নতুন করে গুরু র দলে যোগ দিয়েছেন। বাস্তব ঘটনার এই গুরু আর ভিন্ন কেউ নন, আমাদের সকলের পরিচিত গৌতম বুদ্ধ, এবং সেই পতীতার বাসায় আশ্রয় নেয়া ভক্ত ছিলেন, বুদ্ধের বড় ভাই নন্দ। আশা করি, আমার লেখনীতে কিভাবে আমি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবার বিষয়ে উৎসাহিতকরণ ও অতীব শুপ্ত তথাপি গুরুজ্ঞান কে লুপ্ত না করে তার উন্মোচনে নিজেকে কাজে লাগাবেন কি না, তা কিছুটা হলেও বুঝাতে পেরেছি।